গেমার এবং বাবা -মায়ের জন্যে নিরাপদ গেমিং গাইড

0
5970

Safe-Gaming

গেমার এবং বাবা- মা উভয়ের জন্যেই নিরাপদ গেমিং খুব জরুরী 

সম্প্রতি নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বিনোদনের একটি প্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে গেমিং । গেমিং আনন্দদায়ক বটে, কিন্তু এর পিছনে অনেক সময় ব্যয় করার ফলে গেমারের নানারকম স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা হতে পারে। তবে কিছু সহজ নিয়মকানুন মেনে চললেই গেমিং মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারি হতে পারে। এই পোস্টে আমরা এমনই কিছু টিপস শেয়ার করবো-

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন 

চোখের বিস্রাম

গেমার হিসেবে চোখের যত্ন নেয়া খুবই জরুরী, এই ব্যাপারে একদমই হেলাফেলা করা উচিত নয়। গেমিং-এর মাঝে প্রায়ই বিরতি নিয়ে চোখকে বিস্রাম দিতে হয়। ঘন্টার পর ঘন্টা টিভি কিংবা মনিটর এর দিকে তাকিয়ে থাকা চোখের জন্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিকারক। 

খেলার সময় খেলা, ঘুমের সময় ঘুম

এতে কোন সন্দেহ নেই যে বর্তমান যুগের গেমগুলো খুবই আশক্তিকর । প্রতিটি মিশনই গেমারদের মধ্যে টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি করে। একই সাথে পরের মিশনে কী হবে বা কেমন অস্ত্র তার হাতে আসবে- এসবকিছুই গেমারকে অনেক কৌতূহলি করে তোলে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে গেম খেলতে খেলতে ঘুমের সময়ের ঠিক থাকে না, যা স্বাস্থ্যের জন্যে একদমই ভালো না। দীর্ঘদিন ঘুমে অনিয়ম হলে বিভিন্ন শারিরীক এবং মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।   

Playing Game

হাতের ব্যায়াম 

অনেকেই ভেবে থাকে, ‘ভিডিও গেম থেকে আবার ক্ষতি হয় নাকি? এটা তো একটা ভার্চুয়াল সিমুলেশন মাত্র।’ এটা ঠিক যে গেম-এ গুলি খেলে অথবা রেসিং করতে গিয়ে অ্যাকসিডেন্ট হলে গেমারের হয়তো কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কন্ট্রোলার বা কি-বোর্ড ব্যবহার করলে যেকোন সময় ‘কারপাল টানেল সিন্ড্রোম’ বা ‘নার্ভ ড্যামেজ’-এর মতো দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। গেম খেলার মাঝে হাত ও কব্জির কিছু সহজ ব্যায়াম করে নিলে এধরণের সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব। 

মোশন গেমিং

গেমিং জগতে জনপ্রিয় “জাস্ট ডান্স”, “ডান্স রেভুলুশন” বা “গিটার হিরো”- এ ধরনের গেমগুলো তৈরিই করা হয়েছে এক্সারসাইজের কথা মাথায় রেখে। এসব গেম খেলার জন্যে কন্ট্রোলার বা কিবোর্ডের বদলে ফিজিক্যালি মুভ করতে হয়। ভিআর বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমিং ডিভাইসগুলো বিশ্বজুড়ে বেশ সাড়া ফেলেছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ডিভাইসগুলোতে যেকেউ গগলস পরেই চলে যেতে পারে ভার্চুয়াল জগতে, আরও বেশি কাছ থেকে অনুভব করতে পারে সবকিছু। ফলে একদিকে যেমন গেমিং হয় আরও মজার, অন্যদিকে একই সাথে হয় এক্সারসাইজও। 

গেম খেলুন, ভালো থাকুন 

সারাদিনের ব্যস্ততার পর গেমিং খুব সহজেই ক্লান্তি এবং স্ট্রেস দূর করে দিতে পারে। কো-অপারেটিভ গেমিং শুধু দূরের মানুষদের কাছেই নিয়ে আসে না, বরং তাদের মধ্যে তৈরি করে একধরণের সামাজিক বন্ধন। অ্যানিম্যাল ক্রসিং, পাবজি, জিটিএ ফাইভ অথবা ফারক্রাই সিরিজ-এর মতো আরো হাজারো গেম আছে যেখানে টিমওয়ার্ক করে বিভিন্ন মিশন বা কমপ্লিট করতে হয়। গেম খেললে যদি স্ট্রেস দূর হয়, সোস্যাল বন্ডিং তৈরি হয়; তাহলে তো গেম খেলাই ভালো, তাই না? 

গেমারদের বাবা-মায়ের করণীয়

সন্তানরা গেম খেলার সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি বাবা-মায়ের দায়িত্ব। বাবা-মা হিসেবে একজন গেমারের মানসিক ও শারিরীক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আপনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কোনো গেম আপনার সন্তানের জন্যে উপযুক্ত কিনা- তা বিবেচনা করাও আপনার দায়িত্ব। আর এ কাজকে সহজ করতে কয়েকটি টিপস আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করছি- 

বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত গেমস 

ইন-গেম কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে প্রতিটি গেমের একটি রেটিং থাকে। সেই রেটিংই নির্ধারণ করে গেমটি কোন বয়সের জন্যে উপযুক্ত। ইএসআরবি অর্থাৎ এন্টারটেইনমেন্ট সফটওয়্যার রেটিং বোর্ড গঠনই করা হয়েছিলো যেন বাবা-মা তার সন্তানদের গেম কিনে দেওয়ার আগেই জানতে পারেন গেমটি উপযুক্ত কিনা। ইন্টারনেটে থাকা গেমের মধ্যেও একই ধরণের রেটিং দেওয়া থাকে। এই রেটিং অনুযায়ী বিশ্বের সব গেমগুলোকে সাতটি ক্যাটাগরিতে  ভাগ করা  হয়। যেসব গেম সবার জন্যে তার মধ্যে “ই” লিখা থাকে, অ্যাডাল্টদের গেম এ সবসময়ই “এ” / ১৮+ এবং ম্যাচিউরড বা টিনেজারদের গেমে “এম” এবং ১৭+ উল্লেখ করা থাকে। আপনার সন্তানকে তার বয়স অনুযায়ী গেম খেলতে উৎসাহিত করুন। 

ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং অনলাইন অ্যাকাউন্টস 

বর্তমান যুগে বেশিরভাগ গেমই অনলাইনভিত্তিক। যার কারণে বিভিন্ন সময় গেমারদের বিভিন্নরকম অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করতে হয়। অনেক সময় অনলাইন এ গেম কিনতে ক্রেডিট কার্ড ইনফোরমেশন শেয়ার করতে হয়। সেক্ষেত্রে আপনার সন্তান যেনো ক্রেডিট কার্ড ইনফোরমেশন ভুলভাবে ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। কঠিন পাসওয়ার্ড দেয়া ছাড়াও গেম অ্যাকাউন্ট আথবা ক্রেডিট কার্ডে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন মেথড ব্যবহার করুন। এতে করে কেউ চাইলেও সহজেই আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতে পারবে না। গেমিং-এর সময় আপনার সন্তান যেন নিজের অথবা পরিবারের সম্পর্কে কোনো গোপন তথ্য বা লোকেশন শেয়ার না করে সেদিকেও নজর দিন। 

অনলাইনে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিতকরন 

অনলাইন গেমে যেহেতু একসাথে অনেক গেমাররা মিলিত হয়ে কোনও একটা মিশন কমপ্লিট করে, সেহেতু তাদের সুবিধার্থে অনেক গেমেই ভয়েজ চ্যাট বা টেক্সট চ্যাট-এর অপশন থাকে। সবসময় যে সবাই ইন-গেম কমিউনিকেশনে সবার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করে- তা নয়। প্রায়ই খেলার উত্তেজনায় অনেকে গালাগালি বা খারাপ কথা বলে বসে, যা হয়তো আপনার সন্তানের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এ দেখে আপনার সন্তানও অনেক সময় একই ধরনের আচরণ করতে শুরু করে। তাই এসব ক্ষেত্রে আপনার সন্তান গেমিং-এর সময় কাদের সাথে কথা বলছে বা কীভাবে অন্যদের সাথে কমিউনিকেট করছে- সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে ভয়েজ বা টেক্সট মেসেজ অপশন বন্ধ করা যেতে পারে। অনেক গেমেই প্যারেন্টাল কনট্রোল বলে একটি অপশন থাকে, যা অপ্রাপ্তবয়স্ক গেমারদের বিভিন্ন অপশন ইউজ করা থেকে বিরত রাখে। বাবা-মা হিসেবে আপনিও আপনার সন্তানের গেমগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী প্যারেন্টাল কনট্রোল ব্যবহার করুন। 

নিজেও অংশগ্রহন করুন

গেম যে শুধু ইয়ং জেনারেশনের জন্যে কথাটি সত্য নয়। গেম বিনোদনের এমন এক মাধ্যম যা যেকোনো বয়সের মানুষই উপভোগ করতে পারে। তাই সন্তানকে কোনো গেম খেলতে দেওয়ার আগে সম্ভব হলে নিজেও একবার ট্রাই করুন। আপনার সন্তান যেসব গেম এর ব্যাপারে আগ্রহী, সেসব গেমে আপনিও অংশগ্রহন করুন। এতে করে আপনি সহজেই সেই গেমের প্লট বা মেকানিজম সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবেন। কোন গেমটি আপনার সন্তানের জন্য ভালো আর কোন গেমটি খারাপ তা নিজেই বুঝতে পারবেন। একই সাথে সন্তানের সাথে আপনার বন্ধুত্বের সম্পর্কও আরো গভীর হবে। 

অনেকের কাছেই মনে হতে পারে গেমিং মানেই সময় নষ্ট কিংবা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে এই পোস্টটিতে থাকা সহজ উপায়গুলো অনুসরণ করলে গেমিং-এর প্রতি খারাপ ধারণাগুলো একসময় ঠিকই বদলে যাবে। সঠিক গাইডলাইন মেনে চললেই গেমিং এক্সপেরিয়েন্সগুলো হবে অসাধারণ! 

BUY APP & GAME VOUCHER ONLINE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here